৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এবার তাহলে সরকারি টেস্টেও টাকা!

আপডেট : জুন ২৯, ২০২০ ৯:২৮ অপরাহ্ণ

41

মাসুদ কামাল

এখন থেকে সরকারও টাকা নেবে জনগণের করোনা টেস্ট করতে। রেট নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে- ‍বুথে গিয়ে নমুনা দিলে ২০০ টাকা, বাসা থেকে নমুনা নিলে ৫০০ টাকা। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর জন্যও ২০০ টাকা।

কারণ হিসাবে সরকার বলছে-এতদিন বিনামূল্যে পরীক্ষা হতো বলে অনেকে উপসর্গ ছাড়াই পরীক্ষা করিয়েছে।

এটিই যদি সরকারের যুক্তি হয়, তাহলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর টেস্ট করাতে টাকা কেন লাগবে? কেউ কি উপসর্গ ছাড়াই শখ করে হাসপাতালে ভর্তি হয়? উপসর্গ ছাড়া লোককে হাসপাতাল ভর্তি করে?
যে কারণে এই টেস্ট, সেই করোনার আগমন এবং বিস্তার লাভের জন্য কি জনগণ দায়ী? নাকি সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা, আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা- এসব দায়ী?
সকলেই জানে- করোনাভাইরাসের উৎপত্তি আমাদের দেশে হয়নি। এটা অন্য দেশে থেকে এসেছে। কিভাবে এলো? কোন না কোন সীমান্ত দিয়েই তো। সেই সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কার? সরকার কেন বিদেশ থেকে আসা প্রতিটি যাত্রীদের ঠিকঠাকমত স্ক্রিনিং করতে পারলো না? কেন সন্দেহভাজন প্রতিটি যাত্রীকে কোয়ারিন্টিনে নিতে পারলো না? এয়ারপোর্ট থেকে ইতলি ফেরত যাত্রীদের কে ছেড়ে দিয়েছিল- সরকারের লোকজন নাকি সাধারণ জনগণ? দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদৌ কোন ব্যবস্থা কি নেওয়া হয়েছিল? নেওয়া হয়ে থাকলে তা সাধারণ মানুষ জানতে পারলো না কেন? এসব প্রশ্নের সম্ভাব্য সকল ‍উত্তর থেকেই কিন্তু সরকারের দুর্বলতার বিষয়গুলো নগ্ন হয়ে যায়। তাহলে, করোনা বিস্তারের দায় যাদের, তারা কেন টেস্টের নামে জনগণের কাছ থেকে টাকা নিতে চায়? অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে- আপনার যদি করোনা হয়, সেটা আপনারই অপরাধ। সেই অপরাধের সাজা আপনাকেই ভোগ করতে হবে। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করবেন, আর মৃত্যু হওয়ার আগে পর্যরন্ত এই জন্মগ্রহণ করার দায় চুকিয়ে যেতে থাকবেন।

আমি তো মনে করি, কেবল টেস্ট কেন, করোনা চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ই সরকারের বহন করা উচিত। এমনকি বেসরকারি হাসপাতাল যে চিকিৎসা দেবে, সেটাও সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে তারপর সেটার ব্যয়ভার সরকারের বহন করা উচিত। পৃথিবীর অনেক দেশেই এভাবে এই মহামারিকে মোকাবেলার চেষ্টা হচ্ছে। আজ দেখলাম পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতায় র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টের খবর। এটা কেবল সেখানকার সরকারি হাসপাতালগুলোতেই হবে। মানুষ হাসপাতালে যাবে, নমুনা দেবে, আধাঘন্টার মধ্যেই রেজাল্ট পেয়ে যাবে। বলাবাহুল্য, এসব টেস্টই হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

তবে অন্যের সুখ দেখে, নিজের বেদনা বাড়িয়ে কোন লাভ নেই। আমাদেরও শিখতে হবে- কিভাবে হতাশাকে বুকে চেপে রেখে নিয়তিকে মেনে নিতে হয়। যে দেশের মানুষের প্রতিবাদের ক্ষমতা নেই, তাদের হাসিমুখে অত্যাচারকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্পও নেই।