১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

এগিয়ে চলার বাংলাদেশ, সামনে অনেক পথ

আপডেট : মার্চ ২৬, ২০২১ ৩:৫২ অপরাহ্ণ

166

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা ঘোষণার পর সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি। এর আগে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানো শুরু করে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালির ওপর।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসটিই ছিল টান টান উত্তেজনার একটি মাস, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার মাধ্যমে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল আওয়ামী লীগ এবং দলের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিুবর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানার প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। এরপর বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন, স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আলোচনার মতো অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই মার্চ।

এ কথা সর্বজনবিদিত যে, ইয়াহিয়া-ভুট্টো গং বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি ছিল না। আলোচনা ছিল সময় ক্ষেপণের কৌশল, ইয়াহিয়া খান তথা পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর দুরভিসন্ধি ছিল বাঙালিদের দমন করা। পাকিস্তানি হানাদারদের সশস্ত্র আক্রমণে কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় বাঙালি ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি, সারা বাংলা আগে থেকেই ফুঁসছিলো, পাকবাহিনীর আক্রমন যেন তাদের আরও তেতিয়ে দিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে উদ্দীপ্ত বাঙালি সত্যিকার অর্থেই ‘যার যা আছে’ তা নিয়ে প্রস্তুত হয়ে গেল। দীর্ঘ দিন ধরে চলা মুক্তির সংগ্রাম পরিণত হলো মুক্তিযুদ্ধে। এরপর ৯ মাসের যুদ্ধে, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হলো আমাদের বহুলকাঙ্খিত স্বাধীনতা, ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণে মুক্ত হলো বাংলা।
স্বাধীনতার এই দিনটিতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সকল সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই লাখো শহীদের প্রতি।
স্বাধীনতার পর কেটে গেছে ৫০টি বছর। ২০২১ এর স্বাধীনতা দিবসে গোটা জাতি উদযাপন করছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর পাশাপাশি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশর্তবার্ষিকী মিলে গোটা দেশে এক আনন্দঘণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এবারের আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থিত হয়ে অংশ নিয়েছেন মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও ভারতের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানগণ। তাদের উপস্থিতি আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের নানা আয়োজনকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক রূপ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত, কথায় বলে ‘স্বাধীনতা অর্জণের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন’ কিন্তু গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের পথচলা যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে দেখবো, স্বাধীনতা রক্ষার সেই কাজটি যতই কঠিন হোক তা বাঙালি করতে পেরেছে, স্বাধীনতার স্বপ্ন আর আকাঙ্খা অনেকটাই পূরণ হয়েছে, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষার হাত থেকে আমরা অনেকটাই বের হয়ে আসতে পেরেছি। আজ বাংলাদেশের উন্নয়নরে বিষয়টি সর্বজনবিদিত, স্বাধীনতার সবচে’ বড় সুফল হচ্ছে আমরা এখন নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য গড়তে পারছি। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হ্ওয়ার ক্ষেত্রে অভাবিত অবদান রেখে চলেছে ‘সব সাধকের বড় সাধক, মোদের দেশের চাষা’। দেশে অর্থপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তৈরি পোশাক খাত ও প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধারা।
বাংলাদেশ এখন আর সম্ভাবনাময় একটি দেশই নয়, অনেক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়া একটি দেশ। তারপরও আমাদের সামনে এখনো অনেক পথ বাকি, প্রকৃত গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ কিছু দূর এগোলেও পরে আবার হোচট খায়, এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সুখী,সমৃদ্ধ ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার চলমান লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং আগামী দিনগুলোতে তা আরও বেগবান হবে স্বাধীনতা দিবসে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। স্বাধীনতার এই মহান দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা।




ছবি