২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আমেরিকার ভারতীয়, বাঙালি, এবং তাদের রাজনীতিচেতনা

আপডেট : অক্টোবর ১৪, ২০২০ ৫:২৮ অপরাহ্ণ

15

পার্থ ব্যানর্জী

নব্বই কি পঁচানব্বই শতাংশই এরকম। কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে।
বেশির ভাগ বাংলাদেশী বাঙালি ট্রাম্প সমর্থক নয়। ভারতীয় বাঙালি অনেকেই ট্রাম্প সমর্থক। মোটামুটি ধরে নিতে পারেন, হিন্দু হলে ট্রাম্প ও মোদী সমর্থক, এবং মুসলমান বিদ্বেষী। কৃষ্ণাঙ্গ-বিদ্বেষী প্রায় সবাই। সে হিন্দু হোক, বা মুসলমান।

এর মধ্যেই আমরা দু চারজন ইস্টুপিঠ বেঁচে থাকি। যারা এখনো ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলি। ফ্যাসিজম, যুদ্ধ, আভ্যন্তরীণ অত্যাচারের কথা বলি। অর্থনৈতিক আগ্রাসন ও কর্পোরেট জগতের কুৎসিত, কদাকার কুরূপকে ফাঁস করে দিই। বাড়িতে পেপার টাওয়েল ব্যবহার না করে কাপড় ব্যবহার করি। পরিবেশ দূষণ বন্ধ করার জন্যে গ্রোসারি করতে যাওয়ার সময়ে প্লাস্টিকের ব্যাগ না নিয়ে এসে বাড়ি থেকে চটের কিংবা কাপড়ের থলে নিয়ে যাই।

খরচ একটু বেশি হবে জেনেও ফুড কোঅপারেটিভের মেম্বার হয়েছি, কারণ অর্গানিক ফুড, অর্গানিক ড্রিংক খাই, পান করি। তার জন্যে অবশ্য প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট সময় সেখানে বিনামূল্যে পরিশ্রম দান করতে হয়। আমি চাইল্ড কেয়ার’এ কাজ করি। বাচ্চা দেখি। তাদের বাবামায়েরা, তারাও মেম্বার, তখন তাদের গ্রোসারি করছে, বা কাজ করছে।

নব্বই কি পঁচানব্বই শতাংশ আমেরিকাবাসী ভারতীয় ও বাঙালি এসবের কোনো খোঁজ রাখেনা। কিছু রাখেনা উপায় নেই বলে। যেমন, গরিব বাংলাদেশী বা পাঞ্জাবী খেটে খাওয়া শ্রমিক। ধনী ভারতীয়দের রেস্টুরেন্টে যারা বাসন ধোয়, কিংবা মাছ মাংস কাটে। ন্যানির কাজ করে। কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে লোহার পাইপ বয়।
আর বাকিরা রাখে না, কারণ তাদের কোনো ইচ্ছেই নেই খোঁজ রাখার। তারা আমেরিকায় থাকে আরো ধনী হবে বলে। এই তাদের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য।

এর মধ্যেই আমরা দু চারজন ইস্টুপিঠ বেঁচে থাকি। আমরা যারা ট্রাম্পকে মানবসভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার এজেন্ট বলে মনে করি। মোদী, শাহ, যোগীর আরএসএস কানেকশন আমরা যারা জানি। আবার আরএসএস যে বিজেপিকে চালায়, তাও জানি। এই আরএসএস যে গান্ধীহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল, এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে একফোঁটাও রক্ত দেয়নি, তাও জানি।

এবং জানি, ট্রাম্প এবং তার হোয়াইট খ্রীষ্টান চরমপন্থী বাহিনী যেমন, ভারতে মোদী, শাহ, যোগী ও তাদের উচ্চবর্ণের হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থীরাও ঠিক তেমন। ব্রাজিলের বলসেনারো এবং তার জঙ্গী ধর্মান্ধ খৃষ্টান আধিপত্যবাদীরাও ঠিক তেমন। তারা আমাজন বৃষ্টি অরণ্য ধ্বংস করে দিচ্ছে। উপজাতিদের কচুকাটা করছে। ঠিক যেমন আমেরিকায় আদিম বাসিন্দাদের ব্রিটিশ, স্প্যানিশ ও ইউরোপীয়ানরা কচুকাটা করেছিল। প্লেগ ছড়িয়ে দিয়েছিলো। ভারতে ঠিক যেমন উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা হিটলার ও মুসোলিনির উপাসনা দিয়ে তাদের সংগঠন শুরু করেছিল।

কিন্তু নব্বই কি পঁচানব্বই শতাংশ আমেরিকাবাসী ভারতীয় ও বাঙালি এসবের কোনো খোঁজ রাখে না। তাদের কাছে এসব কথা বলাই যায় না, কারণ তারা কখনো এসব কথা শোনেনি। বললে তারা অবাক হয়ে চেয়ে থাকে। আমরা চলে গেলে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে। ভাবে, আমরা যে এতো বেশি কমিউনিস্ট, আগে তারা কখনো তা টের পায়নি।

অথচ, আমরা একেবারেই কমিউনিস্ট নই। আমার স্ত্রীর দিকে লালঝাণ্ডার অনেকে ছিল বটে। কিন্তু আমার দিকে তো একেবারেই হয় গেরুয়া ভেড়ুয়া, আর নয়তো তেরঙ্গা জয়তু ইন্দিরা এশিয়ার মুক্তিসূর্য লহ প্রণাম।

আমরা আমেরিকায় অতি সংখ্যালঘু ইস্টুপিঠ।

(লেখক-যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভারতীয় শিক্ষাবিদ। )




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *