১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আড়ং এর চাকরি আর দাঁড়ি বিতর্ক

আপডেট : মার্চ ১৬, ২০২১ ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

26

ফজলুল বারী

শফিক রেহমান দৈনিক যায়যায়দিন বের করবেন। নানান জনের সংগে বৈঠক করছেন। আমাকে তার প্রিয় একজন নিয়ে গেলেন ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায়। খাবার এলো গরম কাটলেট। খেতে খেতে নানান পরিকল্পনার কথা বলছিলেন শফিক রেহমান। বললেন, আমি হুইস্কি খাই। কোন দিন নামাজ পড়িনি। কিন্তু শুক্রবার যারা রাস্তা বন্ধ করে জুম্মার নামাজ পড়েন তাদের অনুভূতিকে সম্মান করি।

তখন বিএনপি-জামায়াত আমল। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, কেউ কেউ শেখ হাসিনার বক্তৃতা লিখে। আমি খালেদা জিয়ার বক্তৃতা লিখি। আমারটা বেশি মানুষ খায়।

খালেদা জিয়াকে আধুনিক মনস্ক বোঝাতে বলেন, বিচারপতি মোস্তফা কামালকে ল’ কমিশনের চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি হলেননা। কারন মোস্তফা কামালের দাঁড়ি আছে।

আড়ং এর চাকরি আর দাঁড়ি বিতর্কের সময়ে শফিক রেহমানের সেই বৈঠকের বক্তব্য মনে পড়লো। দাঁড়িওয়ালা যারা আড়ং এর ওপর ক্ষেপেছেন তাদের বলি, আপনারা দাঁড়ি রেখেছেন বেহেস্তে যাবার জন্য। আড়ং বড় না বেহেস্ত বড়। জোর করে অন্তত চাকরিতে ঢোকা যায়না চাকরি করা যায়না। চাকরিদাতার নিজস্ব পলিসি থাকতেই পারে।
এখন সিডনিতে দাঁড়ির বিষয়ে বলি। আমি নতুন বাংলাদেশি ছেলেমেয়েদের চাকরি নিয়ে কাজ করি। কখনো কখনো আমাকে বলে দেয়া হয় দাঁড়ি, হিজাবওয়ালা কাউকে পাঠাবেননা। এদেশের আরব ছেলেমেয়েদের বেশিরভাগ দাঁড়ি রাখে হিজাব পরে। কিন্তু এরা যে দামি সেলুনে দাঁড়ি ফ্যাশন করে কাটে তাতে তাদের অনেক বেশি স্মার্ট আকর্ষণীয় দেখায়।
আর সেভ করার আলসেমিতে বাংলাদেশের দাঁড়িওয়ালা বেশিরভাগ ছেলেদের মনে হবে বিধ্বস্ত দেবদাস। কাস্টমার সার্ভিসের জব। আগে দর্শনদারী পরে গুণ বিচারী। ডলারে ঘন্টা ধরে বেতন দেবে। বিধ্বস্ত দেবদাসকে দেবে কেনো। আরব মেয়েরা যেভাবে ফ্যাশন করে হিজাব পরে বাংলাদেশিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা পারেনা বলে তারা জব মার্কেটেও পিছিয়ে।

(অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিক। লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে। )