৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আজ পবিত্র হজ, সীমিত সংখ্যক হাজী উপস্থিত আরাফাত ময়দানে

আপডেট : জুলাই ৩০, ২০২০ ২:৪৮ অপরাহ্ণ

8

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

পবিত্র হজ্ব, ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের চতুর্থ স্তম্ভ এটি। হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর সময় থেকে তা চলে আসছে, আল্লাহর কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, অঞ্চল ও প্রান্ত থেকে হাজীরা আসেন। যতেই দিন গড়িয়েছে, বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির জয়-জয়কারে মানুষের যাতায়াতের বিষয় যত বেশি সহজ হয়েছে একইসঙ্গে এই ধরণীতে বেড়েছে মানুষের সংখ্যা, ততই বেঢ়েছে পবিত্র হজ্বে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা। আর এখন তো প্রতি বছর ৩০ লাখের মতো মানুষ পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন। লাখো কন্ঠের বুলন্দ আওয়াজে প্রকমিবপত হয় আরাফাতের ময়দান। জাগতিক চাহিদা আর বিষয়াদিকে পেছনে ফেলে সবাই মহান প্রভূকে ডাকেন ‘‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ হে প্রভূ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোন শরীক নেই’।
বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে এবার এবার স্বল্পসংখ্যক হজযাত্রী নিয়ে হজ হচ্ছে সীমিত পরিসরে। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এই ময়দানে আজ ধ্বনিত হবে ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক।’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)।
আজ কাবা শরিফে নতুন গিলাফও পরানো হবে। শুধু সৌদি নাগরিকদের অংশগ্রহণে এই হজ ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে।

এবারের হজ্বে মানুষের এমন ঢল দেখা যাবে না, সীমিত উপস্থিতিতেই পালিত হচ্ছে হজ্ব

প্রখম আলো জানায়, এবার সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে হজে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না কেউ। মহামারি করোনার কারণে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সমর্থ মুসলিম পুরুষ ও নারীর জন্য হজ ফরজ। এবার যাঁরা হজ করছেন, তাঁরা আজ সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে মহান আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকবেন।
এবার হজ্বে অনুমোদিত হজযাত্রী ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করলে তাঁদের ১০ থেকে ২০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। প্রতিটি বাসে সর্বোচ্চ ২০ জন করে হজযাত্রী চলাচল করছেন। প্রতিদিন তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের পাশাপাশি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে কোরবানির ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ ৫০ জন একত্রে পাথর নিক্ষেপ করতে পারবেন। নিক্ষেপের নুড়িপাথর হজ কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যাগের মাধ্যমে সরবরাহ করবে।
সীমিত পরিসরে ২৯ জুলাই বুধবার মিনায় যাওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় হজের কার্যক্রম। যাঁরা আগে হজ করেননি, কেবল তাঁরাই এবার হজের সুযোগ পেয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের সবাইকে বাধ্যতামূলক সাত দিনের সঙ্গনিরোধে (আইসোলেশন) রাখা হয়। মক্কায় আসা নির্বাচিত হজযাত্রীদের আগে থেকেই শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে আলাদা আলাদা স্থানে রাখা হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের ব্যাগপত্র জীবাণুমুক্ত করেন। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকর্মীরা পবিত্র মক্কা ও কাবা শরিফের চারদিকে জীবাণুমুক্ত করতে বিশেষভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন। কোনো হজযাত্রীকে কাবা শরিফ স্পর্শ করতে দেওয়া হচ্ছে না। যথাযথ দূরত্ব বজায় (১.৫ মিটার বা ৫ ফুট) রেখে তাওয়াফ, নামাজে অংশগ্রহণ, সাঈসহ হজের সব কার্যক্রম পালন করতে হচ্ছে।
আরাফাত ময়দানের তিন দিক পাহাড়বেষ্টিত। মাঝে দুই মাইল দৈর্ঘ্য ও দুই মাইল প্রস্থের এই সমতল ভূমি। জাবাল মানে পাহাড়। জাবালে রহমত হলো রহমতের পাহাড়। রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) জাবালে রহমত পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। একে কেউ কেউ দোয়ার পাহাড়ও বলেন। ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন স্মরণ করিয়ে দেয় আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ও আদি মাতা হজরত হাওয়ার (আ.) পুনর্মিলনের ঘটনাকে।
হাজিরা আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থানের পর মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে অবস্থান করবেন। শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে।
মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা মিনায় ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে (ন্যাড়া করে) গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মসজিদুল হারামে গিয়ে কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন।
কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যত দিন থাকবেন, তত দিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট ) শয়তানকে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন।
এ বছর হজের খুতবা দেবেন শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া। তাঁর বয়স ৯২ বছর, তিনিই সবচেয়ে বেশি বয়সের খতিব। বরাবরের মতোই এবারের হজের খুতবাও দেয়া হবে আরবীতে, তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে অনুবাদ হয়ে যাবে বাংলাসহ আরও নয়টি ভাষায়। প্রতিবছর হজের দিন কাবা শরিফের গায়ে নতুন গিলাফ পরানো হয়। সেই ধারাবিহকতায় আজও কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানো হবে। হাজিরা তখন আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। আরাফাত থেকে ফিরে এসে তাঁরা কাবা শরিফের গায়ে নতুন গিলাফ দেখতে পাবেন। এই গিলাফ বা কিসওয়া তৈরিতে ব্যবহৃত হয় কালো রঙের ৬৭০ কেজি খাঁটি রেশম। পুরোনো গিলাফকে টুকরা করে বিভিন্ন দেশের ইসলামিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
কাল সৌদি আরবে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানীর ঈদ, আর বাংলাদেশে এই ঈদ হবে ১ আগস্ট শনিবার। পবিত্র হজ্বের উছিলায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যাতে পৃথিবীকে করোনামক্ত করেন সে জন্য দোয়া হবে মসজিদে মসজিদে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *