২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আজহা, আদহা, রমজান, রমাদান

আপডেট : আগস্ট ২, ২০২০ ৬:২৭ অপরাহ্ণ

43

আমীন আল রশীদ

রোজার মাসে ‘রমজান’ নাকি ‘রমাদান’ নিয়ে যেমন আলোচনা দেখা যায়, তেমনি এবার দেখা গেলো ঈদুল ‘আজহা’ নাকি ‘আদহা’—এই নিয়ে তর্ক। বিষয়টা খুব সিম্পল। একটু ব্যাখ্যা করা দরকার। তবে যারা জানেন, তারা এটিকে ধৃষ্ঠতা বা বেয়াদবি হিসেবে নেবেন না দয়া করে।

‘রমজান’ আরবি শব্দ, যার অর্থ পুড়িয়ে ফেলা। এটি আরবি বর্ণ ‘দোয়াত’ দিয়ে লেখা হয়, যা ইংরেজিতে লিখলে হয় Ramadan, সে হিসেবে বাংলায় উচ্চারণ হওয়ার কথা ‘রমাদান’। কিন্তু আমাদের দেশে এটি বছরের পর বছর ‘রমজান’ হিসেবেই ব্যবহৃত। গণমাধ্যমে এটিকে রমজান লেখা হয় এবং অধিকাংশ মানুষ এটাকেই রমজান-ই উচ্চারণ করেন। তবে টেলিভিশনে ইসলামিক অনুষ্ঠানে অনেক আলোচক এটাকে অধিকতর শুদ্ধ করার জন্য রমাদান উচ্চারণ করে থাকেন। কিন্তু ভাষা যেহেতু প্রবহমান এবং অনেক বিদেশি শব্দই বাংলা ভাষাভাষীদের কণ্ঠে ও লেখায় নিজস্ব রূপ ধারণ করেছে, রমজানও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলা একাডেমিও ‘রমজান’ লেখে। তবে রমজান ও রমাদান—উভয়ই সঠিক।মুশকিল হলো, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে নতুন ট্রেন্ড চালু করা বা স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার কৌশল হিসেবে ‘রমাদান’ লিখে থাকেন।

অনেকে শব্দটিকে অধিকতর ইসলামিকরণের স্বার্থেও ‘রমাদান’ লেখেন ও বলেন। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, যেহেতু রমজান শব্দটি অধিকতর প্রচলিত এবং মানুষ এটাতেই অভ্যস্ত, অতএব এটাকে রমাদান বানানোর কোনো প্রয়োজন নেই। যত সহজ থাকা যায়, ততই ভালো।এবার আসি আজহা ও আদহা প্রসঙ্গে। রমজানের মতো আজাহা’ও আরবি শব্দ, যার অর্থ পশু কোরবানি দেয়া। এটিও রমাদানের মতো আরবি বর্ণ ‘দোয়াত’ দিয়ে লিখতে হয়, যা ইংরেজিতে লিখলে হয় হয় Adha। কিন্তু রমজানের মতো এটিও আমাদের দেশে আজহা হিসেবেই লিখিত এবং উচ্চারিত। এটাও ভাষার প্রবহমানতা এবং বিদেশি শব্দের নিজস্বকরণের অংশ। এটা দোষের কিছু নয়। সুতরাং কেউ যদি এখন নতুন ট্রেন্ড চালু বা অধিকতর ইসলামিকরণের রাজনীতির অংশ হিসেবে ‘আদহা’ লেখা শুরু করেন, সেটা তাদের ব্যাপার। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি আজহা লেখারই পক্ষে। কারণ আরবি শব্দ হলেও রমজানের মতো এটিরও বাংলাকরণ হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে আমরা হাদিসের বানানটা খেয়াল করতে পারি। হাদিসও আরবি শব্দ, যার অর্থ বাণী। এটির শেষ বর্ণ আরবি ‘ছা’। কিন্তু ইংরেজিতে লেখা হয় Hadith। তো কেউ যদি এখন এটাকে ইংরেজিকরণ করতে গিয়ে বাংলায় হাদিথ লেখেন, সেটা হাস্যকর হবে না?একটা গল্প দিয়ে লেখাটা শেষ করি:মসজিদে মুসল্লিদের মধ্যে বেশ ঝগড়া। কারণ ঈমাম সাহেব সুরা ফাহেতা পড়তে গিয়ে ‘দোয়াললিন’ না বলে ‘জোয়াললিন’ বলেছেন। এ নিয়ে নামাজের পরে মুসল্লিদের মধ্যে দুটি ভাগ হয়ে গেলো। একদল দোয়াললিনের পক্ষে, আরেক দল জোয়াললিনের। সমস্যা সমাধানে মুসল্লিরা মধ্যস্ততা করার জন্য একজন পথচারীকে থামালেন। তাকে ঘটনা খুলে বললেন এবং এর একটি সমাধান দিতে বললেন। পথিক বললেন, ‘ভাই আমি নামাজই পড়ি না। সুতরাং দোয়াললিন-জোয়াললিনে আমার কিছু যায় আসে না।(লেখক- সাংবাদিক।)